এই হাতের শ্রমে, জামদানির জন্ম।
সুতো থেকে নকশা—প্রতিটি ধাপে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা আর যত্ন।
আঙুলে পরখ, চোখে মনোযোগ
সুতি, রেশম বা তসর—প্রতিটি সুতোর উৎস আলাদা। বাজার থেকে আনা প্রস্তুত সুতো হাতে পরখ করে, জট ছাড়িয়ে, সূক্ষ্মতা দেখে বাছাই করা হয়।
জামদানি কোথায় বোনা হয়
জামদানি বোনা হয় ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জে, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ আর সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। রূপগঞ্জের নোয়াপাড়ায় আছে জামদানি পল্লি, যেখানে ঘরে ঘরে তাঁত চলে।
ডেমরার জামদানি হাট বসে ভোরবেলা। তাঁতিরা নিজেদের বোনা শাড়ি হাতে নিয়ে আসেন, পাইকার আর ক্রেতারা সেখান থেকেই বেছে নেন।
স্বীকৃতি
২০১৩ সালে ইউনেস্কো জামদানি বুননকে মানবজাতির নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করে। ২০১৬ সালে জামদানি বাংলাদেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পায়।
কাউন্ট মানে কী
কাউন্ট মানে সুতা কতটা চিকন। সংখ্যা যত বেশি, সুতা তত মিহি, কাপড় তত পাতলা আর নরম। ৬০/৮০ কাউন্ট মানে টানায় ৬০ আর পোড়েনে ৮০ কাউন্টের সুতা; ৮৪ কাউন্টে কাপড় আরও হালকা হয়, নকশা আরও স্পষ্ট ফোটে।
মিহি সুতায় বুনতে সময় বেশি লাগে, তাই কাউন্ট বাড়লে দামও বাড়ে।
নকশার নাম
জমিনে ছড়ানো ছোট বুটির নকশাকে বলে বুটিদার। নকশা কোনাকুনি সারিতে সাজানো থাকলে তেরছা, আর পুরো জমিনজুড়ে জালের মতো ছড়ানো থাকলে জাল। কলকা আর পান্না হাজার পুরোনো, চেনা নকশার নাম।
এই নকশা ছাপা বা মেশিনে তোলা নয়। তাঁতি প্রতিটা বুটি হাতে আলাদা সুতা ঢুকিয়ে তোলেন, তাই একই নকশার দুটো শাড়িও হুবহু এক হয় না।
একটা শাড়ি বুনতে কত দিন লাগে
কাজের পরিমাণ অনুযায়ী একটা জামদানি শাড়ি বুনতে দুই সপ্তাহ থেকে এক মাস লাগে। শাড়িতে কাজ যত ঘন, সময় তত বেশি, দামও সেই অনুযায়ী।
জামদানির যত্ন
জামদানি শাড়ি পানিতে ধোয়া বা ড্রাই ওয়াশ করা যায় না, একমাত্র কাঁটা ওয়াশ করাতে হয়। ভাঁজ করে একই জায়গায় অনেক দিন রাখবেন না, মাঝে মাঝে ভাঁজ বদলে দিন।
